Header Ads

Header ADS

বীমা খাতে কিছু অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা রয়েছে এর থেকে বেরিয়ে আসতে IDRAএর ভূমিকা দরকার

 

There is some unhealthy competition in the insurance sector which requires the role of IDRA to come out




বীমার ক্ষেত্রে সমসাময়ীক কিছু সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা একদিকে যেমন গ্রহন যোগ্যতা পেয়েছে অন্যদিকে তেমনি বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মখীন হয়েছে। ২০২৩ সালে বীমা সেক্টরে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক কারণে এবং আভ্যন্তরিন আর্থিক খাতের অনিয়ম এবং দুর্নিতির কারণে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

বীমা খাতে কিছু অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা রয়েছে এর বেরিয়ে আসতে IDRAএর ভূমিকা দরকার

মোঃ মানসুর আলম সিকদার, এম বি এ, এল এল. বিঃ বাংলাদেশের ব্যবসায়িরা সাধারনত কেউ ইচ্ছা করে বীমা ঝুঁকি নেয় না। নেয়াত বাধ্যহয়েই তারা বীমা পলিসি গ্রহন করে থাকে। সাধারণ বীমা ও জীবন বীমা কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতার পর শুরু হওয়া বীমা খাতে এখন সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৮০ (আশিটি) কোম্পানি সক্রিয় আছে। এর মধ্যে জীবন বীমা নিয়ে কাজ করা কোম্পানির সংখ্যা ৩৫টি আর সাধারণ বীমা নিয়ে কাজ করে আরও ৪৬টি প্রতিষ্ঠান। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন দীর্ঘকাল সরকার গুরুত্ব না দেয়ায়, সঠিক বীমা এজেন্ট তৈরি না হওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকরা এজেন্টদের প্রতারণার শিকার হওয়া, বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে অনিহা ইত্যাদি কারণে বীমা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা আছে যা এ শিল্পের বিকাশে বাধা হিসেবে কাজ করছে। এগুলো অবশ্যই দুর করতে হবে। তবে এ কথাও সত্যি যে, একটা সময় ছিল মানুষ বীমার প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণ করতেন। এখন সেই ধারণা অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে প্রায়। এখন মানুষ নিজের প্রয়োজনেই বীমা করছেন, বিশেষ করে লাইফ ইন্সুরেন্স এর ক্ষেত্রে। আইডিআরএ ভবিষ্যতেও তাদের কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনা করতে পারলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বর্তমানে জিডিপিতে বীমা খাতের অবস্থান খুবই সামান্য। বীমা খাতে কিছু অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হলে আইডিআরএর ভূমিকা দরকার।

বীমার ক্ষেত্রে সমসাময়ীক কিছু সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা একদিকে যেমন গ্রহন যোগ্যতা পেয়েছে অন্যদিকে তেমনি বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মখীন হয়েছে। ২০২৩ সালে বীমা সেক্টরে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক কারণে এবং আভ্যন্তরিন আর্থিক খাতে অনিয়ম, নৈরাজ্য এবং মূদ্রাপাচারের কারণে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে নিম্নে আলোকপাত করা হলঃ

মটর বীমায় তৃতীয় পক্ষের পরিকল্প বাতিলঃ সার্কুলার নং- নন-লাইফ ৮২/২০২০, তারিখঃ ২০ /১২/২০২০ এর মাধ্যমে মটর এর ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি বীমা, তথা থার্ড পার্টি পরিকল্প বাতিল করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বীমা খাতে প্রিমিয়াম (কম-বেশি) ১৩% কমে গেছে, এমন কি মটর থার্ড বাতিল হওয়ার কারণে বাংলাদেশের নন-লাইফ বীমা কোম্পানীগুলো অনেক শাখা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

সাম্প্রতিককালের মোটর ইন্স্যুরেন্স নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন যা ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে আশার আলো দেখা দিচ্ছে। তাই এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট যারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। ২০১৮ সালে মোটর ইন্স্যুরেন্স থার্ডপার্টি বাতিল সংক্রান্ত যে আইনটি পাশ হল এবং তার আগে যে আলাপ আলোচনা হচ্ছিল সে বিষয়ে বীমা সংশ্লিষ্টদের আলাপ-আলোচনা বা বাদ-প্রতিবাদ তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যায় না বা এ বিষয়ে খুব একটা দেন-দরবার হয়েছে বীমা সংশ্লিষ্টদের কর্তৃক তারও যুক্তিসই প্রমান নেই। ফলে আইনটি পাশ আর পরবর্তীতে প্রয়োগ যখন শুরু হলো আর ইন্স্যুরেন্স মার্কেটে নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট পরলো তখনই বীমা সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে উঠলো।

বিশেষ করে যখন বিআরটিএ ঘোষণা দিল যে গাড়ির মালিককে ইন্স্যুরেন্স করা বাধ্যতামূলক নয়। আর যখন মোটর ইন্স্যুরেন্স পলিসি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক আর জরিমানা করা হচ্ছে না, ফলে অধিকাংশ গাড়ির মালিক তাদের গাড়ির বীমা করছে না তখন মোটর প্রিমিয়াম খাতে বিশাল অংকের আয়ে ঘাটতি দেখা দিল, ফলে অনেক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর শাখা অফিসসমুহের আয় ব্যপকহারে কমে গিয়ে শাখা অফিস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম, তখন সংশ্লিষ্ট সকলে একটু নড়েচড়ে বসলেন বলে মনে হয়। আর তা ছাড়া ২০২০-২১ বা ২০২১-২২ সালে সরকারের মোটর বীমার আয় থেকে উপার্জিত ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং হবে যদি না মোটর বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়।

বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমাঃ বেশ কিছুদিন পূর্বে বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমা নামে একটি পরিকল্প চালু হয় সেখানে নেট প্রিমিয়াম প্রদান করতে হয় ১০০ টাকা তার পরিবর্তে ক্যাপিটাল অর্থ হচ্ছে ২,০০,০০০.০০ (দুই লক্ষ) টাকা। কিন্তু সেটাও এখন কতিপয় কারণে জনপ্রিয় হচ্ছে বলে মনে হয় না। অনেকেই মনে করছেন যে, ক্ষতিপূরনের হার এবং কভারেজ সামান্য, যা বেশি হওয়া উচিৎ ছিল। আইনগতভাবে যতটুকু ক্ষতিপূরণ কভারেজ দেয়া হয় সেটা পর্যাপ্ত না, তাই এটার নাম সুরক্ষা হতে পারে না অর্থাৎ আহত, অসুস্থতা জনিত হাসপাতালে ভর্তি, দুরারোগ্য ব্যধি, প্রকৃতিগত মৃত্যু ইত্যাদির কোন ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যায় না। মনে হচ্ছে এ সমস্ত কারণে বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমা নামে পরিকল্পটি জনপ্রিয় হচ্ছে না। এই বীমা ঝুঁকির ক্ষতিপূরনের পরিসীমা নিম্নে তুলে হলঃ

– উভয় চোখের সম্পূর্ণ স্থায়ী ক্ষতি / উভয় হাত / উভয় পা / চোখের এক স্থায়ী ক্ষতি এবং এক অঙ্গ / এক হাত এবং এক পা (আঘাতের calendar ক্যালেন্ডার ৬ মাসের মধ্যে) ১০০% পরিশোধ।

– এক চোখের সম্পূর্ণ স্থায়ী ক্ষতি / এক হাত / এক পা মোট স্থায়ী ক্ষতি (আঘাতের calendar ক্যালেন্ডার ৬ মাসের মধ্যে) ৫০% পরিশোধ।

একজন গাড়ি শ্রমিক নেতা দাবি করেন যে, বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমার ন্যয় মটর বীমা পলিসিতে প্যাসেঞ্জার এবং ড্রাইভার + হেলপার + এবং কনডাক্টর প্রিমিয়াম বাড়িয়ে নিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যেতে পারে অথবা শ্রম আইন ২০১৮ অনুযায়ী কোন শ্রমিক মৃত্যু বরণ করলে তার পরিবার ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে। কোন শ্রমিক আহত হওয়ার পর পঙ্গু হলে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার করে প্রদান করা যেতে পারে।

প্রিমিয়ামের থেকে ষ্ট্যাম্প মূল্য বেশী হওয়া অযুক্তিকঃ অতি সম্প্রতি যে বিষয়টি সর্বাধিক সমালোচিত হচ্ছে তা হচ্ছে স্ট্যাম্প ডিউটি প্রয়োগের নীতিমালা। এই নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের চেয়ে স্ট্যাম্প ডিউটির পরিমান বেশী হয়ে যায়।অর্থাৎ খাজনার চেয়ে বাজনা বেশী হয়ে যায়। উদাহরন স্বরূপ Personal Accident Policy এবং Peoples Personal Accident পলিসির কথা বলা যায়। যেমনঃ একজন ব্যক্তি, ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা পলিসি ক্রয় করবে, তার পেশা হচ্ছে কেরানি এবং Death, Permanent Total & Partial Disablements ঝুঁকি নিবে। ধরুন বীমা অংক ৫,০০,০০০.০০ (পাচ লক্ষ) টাকা। সেখানে প্রিমিয়াম হবে ০.১২৫% হারে প্রিমিয়াম হবে ৬২৫ টাকা। ষ্ট্যাম্প হবে ১,০০০ টাকা। মোট হবে ১,৬২৫.০০ টাকা। এরূপ সামঞ্জস্যহীন নীতির কারনে বীমাগ্রহীতাগন স্বভাবতই এই ধরনের বীমা করার ক্ষেত্রে নিরূৎসাহিত হয়ে পড়বেন। ফলে পার্সোনাল এক্সিডেন্ট পলিসি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এগোবে ।

অগ্নি বীমা পলিসির ক্ষেত্রেও বীমা কোম্পানীগুলো একই সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে, যেমন-
(i) বীমা অংক ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রতি পলিসিতে ২০০ টাকা ব্যবহার করতে হবে। 1 লক্ষ টাকা বীমা অংক হলে প্রিমিয়াম আসে খুবই সামান্য। যা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ২০০ টাকার কম ।

(ii) বীমা অংক ১ লক্ষ টাকার উর্ধ্বে হলে প্রতি পলিসিতে ৫০০ টাকা ব্যবহার করতে হবে । পূর্বে ছিল: বীমা অংক ১০,০০০.০০ টাকার উর্ধ্বে যাই হোক স্ট্যাম্প শুল্ক ৫০.০০ টাকা হবে। এই নীতির ফলে অনেক সময় প্রিমিয়ামের চেয়েও অনেক সময় ষ্ট্যাম্প বেশী টাকার ব্যবহার করতে হয়। যা সম্পূর্ণ অযুক্তিক। যেমনঃ বীমার বিষয় বস্তুর মূল্য ২০০,০০০.০০ (দুই লক্ষ) টাকা ধরুন রেট আছে ০.১৩% সে ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম হবে ২৬০ টাকা কিন্তু ষ্ট্যাম্প দিতে হবে ৫০০ টাকা। প্রিমিয়াম থেকে ষ্ট্যাম্পের মূল্য কখনোই বেশি হবে না। এগুলো পরিবর্তন করতেই হবে। যদিও অগ্নি ট্যারিফের বিধান অনুযায়ী প্রিমিয়াম ৫০০ টাকার কম নেয়া যাবে না।

এজেন্ট কমিশন স্থগিত এবং পুনরায় চালুঃ সার্কুলার নং: নন-লাইফ ৮৪/২০২১, তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ অনুযায়ী সাধারণ বীমা কোম্পানির এজেন্ট কমিশন স্থগিত করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ফলে ব্যবসা অর্জন বা বীমা পলিসি বিক্রির বিপরীতে এজেন্টদের কোনো ধরনের কমিশন দেয়া যাবে না। ১ মার্চ, ২০২১ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। আইডিআরএর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নন-লাইফ বীমা খাতে কর্তৃপক্ষ অনেক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে বীমা আইন, ২০১০-এর অধীনে বীমা এজেন্ট নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নন-লাইফ বীমা খাতে কমিশন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। অনেকেই মনে করছেন যে, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

কিন্তু সার্কুলার নং নন-লাইফ ৮৪/২০২১, তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ অনুযায়ী সাধারণ বীমা কোম্পানির এজেন্ট কমিশন স্থগিত করে দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ফলে ব্যবসা অর্জন বা বীমা পলিসি বিক্রির বিপরীতে এজেন্টদের কোনো ধরনের কমিশন দেয়া যেত না। ১ মার্চ, ২০২১ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। আইডিআরএর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নন-লাইফ বীমা খাতে কর্তৃপক্ষ অনেক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে বীমা আইন, ২০১০-এর অধীনে বীমা এজেন্ট নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়া পর্যান্ত নন-লাইফ বীমা খাতে কমিশন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে উল্লেখ ছিল। ২৪ অক্টোবর ২০২১ তারিখে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয় যে, বীমা আইন, ২০১০ এর অধীনে প্রণীত বীমা এজেন্ট (নিয়োগ, নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা ২০২১ সরকার কর্তৃক চূড়ান্তকৃত হওয়ায় নন-লাইফ ৮৪/২০২১ এর ক্রমিক নং (১) এবং (২) এর কার্যকারিতা স্থগিত করা হল। অর্থাৎ ১৫% শতাংশ এজেন্ট কমিশন পুনরায় চালু রইল। এ কারণে বীমা বাজার পুনরায় অস্থিতিশিল হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

ডলার সংঙ্কটের কারণে ণৌ-বীমা পলিসি কম হচ্ছেঃ কালের কন্ঠের সূত্র অনুযায়ী ডলার নেই ২০ ব্যাংকে, এলসি খুলতে ভয়াবহ সংঙ্কট চলছে। কোনো কোনো দায় পরিশোধে এক মাসও বিলম্ব হচ্ছে। এ অবস্থায় এলসির নিশ্চয়তা দেওয়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিদেশি অনেক ব্যাংকই এখন বাংলাদেশের জন্য নিজেদের ক্রেডিট লাইন কমিয়ে দিতে শুরু করেছে। ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, বিদ্যমান ডলারসংকট পরিস্থিতি ভয়াবহ। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছেন না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যাংক এলসি দায় পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর ডলার ঘাটতির পরিমাণও বাড়ছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ যে হারে কমছে, তাতে ডলারসংকট আরো তীব্র হবে। কগুলো এলসি দায় পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের এলসি নেওয়াই বন্ধ করে দিতে পারে।

– ইসলামী ব্যাংক ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক এরই মধ্যে অনেক এলসি দায় পরিশোধে বিলম্ব করেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ছাড়াও ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ কমার্স ব্যাংকের এলসি দায় পরিশোধে বিলম্ব করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংকসহ দেশের এক ডজন ব্যাংকের বিরুদ্ধে এলসি দায় বিলম্বে পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে।

– বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ডলার ঘাটতিতে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণ ২৫৬ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক ৮৮ মিলিয়ন, ঢাকা ব্যাংক ৬৮, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৬৪, ইউসিবিএল ৪৯, দ্য সিটি ব্যাংক ৪৭, পূবালী ব্যাংক ৪৫, প্রাইম ব্যাংক ৪২ ও সাউথইস্ট ব্যাংক ৪১ মিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে রয়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণ ৩৫ মিলিয়ন ডলার। মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৩৪, ওয়ান ব্যাংক ৩২, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ২৭, ন্যাশনাল ব্যাংক ২৪, ব্যাংক এশিয়া ১৪ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ১১ মিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে রয়েছে। ৮ মিলিয়ন ডলার করে ঘাটতিতে রয়েছে ট্রাস্ট, ব্র্যাক ও এনসিসি ব্যাংক। বিদেশী খাতের কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনেও ৪ মিলিয়ন ডলার ঘাটতি রয়েছে। উপরোক্ত কারণে ণৌ-বীমা পলিসি কম হচ্ছে।তাই নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রিমিয়াম আয় কম হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন ২০২৩ সালে বীমা খাতের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অগ্নি বীমা পলিতেও প্রভাব পড়েছেঃ অনেক ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়ার কারণে চাহিদা অনুযায়ী ঋন প্রদান করতে পারছে না তাই অগ্নি বীমা পলিতেও প্রভাব পড়েছে। পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে ১২টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এই তালিকায় আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এন আর বি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক।

– দুর্নীতির কারণেই মূলত এই ব্যাংকগুলোতে বড় আকারে মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৩ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ঘাটতি যথাক্রমে ২ হাজার ৮৫১ কোটি, ২ হাজার ৩৯০ কোটি ও ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের মূলধন ভিত্তি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় দুর্বল। তাই ব্যাংগুলোতে নতুন করে তেমন লোন প্রদান করা যাচ্ছে না, ২০২৩ সালে এর চরম বিরূপ প্রভাব পরবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছে। তাই নন-লাইফ বিমাতে অগ্নি বীমা প্রকল্প কম হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। তার ফলশ্রুতিতে নন-লাইফ বীমা সেক্টরে অগ্নি বীমা প্রিমিয়াম কমে যাবে বলে বিশ্লেষকগন মনে করছেন।

– বীমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্বিমুখী চাপে বীমার মুখ্য নির্বাহীরাঃ দ্বিমুখী চাপে বীমার মুখ্য নির্বাহীরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি-নিষেধ না মানলে হবেন অপরাধী, জুটতে পারে জেল-জরিমানা। আবার মালিকদের কথা না শুনলেও থাকবে না চাকরি, বন্ধ হবে রুজি-রোজগারের পথ। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির উন্নয়ন বা গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা –কোনটিতেই মনোযোগ দিতে পারছেন না বীমা কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহীরা। এটা বীমা সেক্টরের জন্য এ্যলারমিং বলে অনেকেই মনে করছেন।

২০২৩ সালে ঋণ শোধ করতে হবে দ্বিগুণ হারেঃ প্রথম আলোর পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০২১ সালে সুদসহ দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বাংলাদেশকে দ্বিগুণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ ২০২২ সাল শেষে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ঠেকবে ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে দেশের বেসরকারি খাতকে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বাকি পাঁচ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে সরকার। তবে আগামী দুই বছর বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময়েও প্রতিবছর সুদসহ ২০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে যে, বেসরকারিভাবে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋন পরিশোধ, বায়রা ট্রেডিং লোনের ঋন পরিশোধ, ডেফার্ড এলসির ঋন পরিশোধ, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ভাড়া ভিত্তিক ঋন পরিশোধ এবং বৈদেশিক ঋনের কিস্তি সরুপ পরিশোধ ডলারে করতে হবে। এত দায় শোধ করা বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত কঠিন হয়ে পড়বে বলে অর্থনিতিবীদগন মনে করছেন। তাই আগামি জুলাই – ২০২৩ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে বলে অনেক বিশ্লেষকগন মনে করছেন। তবে দুর্নিতি, ব্যাংক ঋন জালিয়াতি এবং মূদ্রা পাচার রোধ করতে না পারলে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে বলে অনেক অর্থনিতিবীদগন মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে বীমা খাতও চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে, তার ফশ্রুতিতে শত শত বীমার শাখা অফিস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে এবং হাজার হাজার বীমা কর্মি চাকরি হারাতে পারে। তাই সময় থাকতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।


আমাদের ফ্রি Training গুলো দেখতে যুক্ত হতে পারেন YouTube Or Facebook এ

No comments

Powered by Blogger.