দেশের ১৬টি বিমা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত খরচ করেছে ১২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা
16 Insurance Companies of The Country Have Spent Additional 123 Crore 70 Lakh Taka
সরকারি ও বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয়ের জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্ধারিত সীমার বেশি খরচ করতে পারে না। তার পরও আইন লঙ্ঘন করে দেশের ১৬টি বিমা প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জীবন বিমা করপোরেশনও রয়েছে।
বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২১ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদন ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ১৬টি কোম্পানিকে পরিচালন ব্যয় বাবদ অনুমোদন দেয়া হয়েছিল মোট ৪৫০ কোটি ১ লাখ টাকা। অথচ তারা খরচ করেছে ৫৭৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত খরচ করেছে ১২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বেতন আর এজেন্ট কমিশনের পেছনে খরচ বেশি হচ্ছে বলে সীমার অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের।
সীমার চেয়ে বেশি ব্যয় বিমা আইনের ব্যত্যয়। কিন্তু এর দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
জবাবদিহির ঘাটতির কারণে এ রকম হচ্ছে মন্তব্য করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, স্বচ্ছতার অভাব এবং জবাবদিহির ঘাটতির কারণে এ খাতে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ফলে আইডিআরএকে এ বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
ড. ইফতেখার আরও বলেন, ‘গ্রাহক ক্ষতির সম্মুখীন হলে কিংবা তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে কোনোভাবেই এ রকম ব্যয় মেনে নেয়া যাবে না।’
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার বেশি খরচ করলেও ব্যতিক্রমও আছে। যেমনটা ডেল্টা লাইফ। তারা নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চেয়ে ২০ কোটি টাকা কম খরচ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এমডি আদিবা রহমান বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা খরচ করা হয় গ্রাহকের টাকা থেকে। ফলে আইডিআরএ ব্যবস্থাপনা খরচ নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত হারের চেয়ে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি খরচ করলে বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতি। কারণ বিমা প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের প্রিমিয়াম দিয়ে ফান্ড তৈরি করা হয়। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে কোম্পানি ক্ষতির মধ্যে পড়ে। এতে গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়।’
কে কত খরচ করেছে
জীবন বিমা করপোরেশনের (জেবিসি) পরিচালন ব্যয় আইডিআরএ ঠিক করে দিয়েছিল ২১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ৪১ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেশি খরচ করেছে।
স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি খরচ করেছে ১৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে তারা নির্ধারিত সীমার প্রায় আড়াই গুণ খরচ করেছে। অন্যদিকে সানফ্লাওয়ার লাইফ অনুমোদিত খরচের চেয়ে বেশি খরচ করেছে ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা। তারাও নির্ধারিত সীমার প্রায় আড়াই গুণ খরচ করেছে।
গোল্ডেন লাইফ ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ বেশি খরচ করেছে ৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠান বেতন, এজেন্ট কমিশন ও অন্য খাতগুলোতে সীমার অতিরিক্ত খরচ করেছে।
১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই পাঁচটি সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে।
আইনে কী আছে, আইডিআরএ কী বলছে?
বিমা আইনে বলা হয়েছে, জীবন বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো বছরের সংগ্রহের কমিশন খরচ বা পারিশ্রমিকসহ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যয় করতে পারবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ব্যয় করলে সীমা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আইডিআরএর চেয়ারম্যান জয়নাল বারী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে চারজন সদস্যের কেউই আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বর্তমানে আইডিআরএর কোনো মুখপাত্রও নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইডিআরএর এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকের পলিসির অর্থ দিয়ে ব্যবস্থাপনা ফান্ড তৈরি করা হয়। বার্ষিক প্রিমিয়াম আয়ের ওপর নির্ভর করে আইডিআরএ প্রত্যেক কোম্পানিকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেয়। তবে বেশির ভাগ কোম্পানি এটি অনুসরণ করে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা। তারা সময়মতো অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না।
আইডিআরএর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন দুর্বল হওয়ার কারণে কোন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করা হয় তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। আবার আইডিআরএ অতিরিক্ত ব্যয় করার জন্য বিমা কোম্পানিগুলোকে জরিমানাও করে না।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিমা কোম্পানির প্রিমিয়াম আয়ের ওপর নির্ভর করে ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারণ করে দেয় আইডিআরএ। বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো আইডিআরএর বেঁধে দেয়া সীমার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করে না। সঠিক পদক্ষেপের অভাবে বিমা কোম্পানিগুলো আইনের বাইরে গিয়ে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পরিচালন ব্যয় বেশি হতে পারে। তবে দেশের বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন, অতিরিক্ত কমিশন ও নানা রকমের অতিরিক্ত খরচ করে। ফলে তাদের ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ব্যয় করার একটা প্রবণতা আছে কোম্পানিগুলোর। আইডিআরএ সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে না।’
এই শিক্ষক আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে গেলে কোম্পানির মুনাফা কমে যায়। সঠিকভাবে অর্থ খরচ না করার কারণে বিমা দাবি পরিশোধ করতে পারে না তারা।
কী বলছে প্রতিষ্ঠানগুলো
ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ হওয়ার বিষয়ে জীবন বিমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বেতন ও এজেন্ট কমিশন দেয়ার কারণে পরিচালন ব্যয় বেশি উঠছে। যারা ব্যবসা উন্নয়নে (এজেন্ট) কাজ করেন, তাদের প্রথম বর্ষে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেয়া হয়। এ ছাড়া পেনশন দেয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হয়েছে।’
সরকারি প্রতিষ্ঠানটির এই প্রধান নির্বাহীর দাবি, তারা নিয়ম মেনে অর্থ খরচ করেছেন। অতিরিক্ত কোনো অর্থ খরচ করার সুযোগ তাদের নেই।
স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির তো অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়। এ বিষয়টি তো আইনেই আছে।’
অন্য প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
গোল্ডেন লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, প্রথম বর্ষের ব্যবসার ওপর ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ভর করে। করোনার পর ব্যবসা কমেছে। ব্যবস্থাপনা ব্যয় আগেই নির্ধারণ করা হয়। অনেক খাত নিয়ে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের হিসাব করা হয়।
ইন্স্যুরেন্স পেশায় TRAINING এর বিকল্প নেই । আমরা যারা বীমা পেশায় কাজ করি আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ টেনিং না থাকার কারণে বেশী ইন্স্যুরেন্স সেল করতে পারিনা। তাই Insurance Man আপনাদের জন্য নিয়ে এলো ফ্রি Online Training.
আমাদের ফ্রি Training গুলো দেখতে যুক্ত হতে পারেন YouTube Or Facebook এ
YouTube: https://www.youtube.com/@InsuranceMan/videos
Web/Blog Site Link : https://insuranceman01.blogspot.com/
Fb Page : https://www.facebook.com/profile.php?id=100086409855197

No comments