ব্যাংকে টাকা রেখে আর বীমা করে কি একই সুবিধা পাওয়া যায় 'হ্যালো বীমা'
Are The Same Benefits Available by Keeping Money in The Bank And Insurance
বীমা বিশেষত জীবন বীমা নিয়ে অনেকের নানা জিজ্ঞাসা থাকে। অনেকের নানা দ্বিধা বা উদ্বেগ থাকে। বীমার সুবিধা সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। অনেকে প্রশ্ন করেন, ব্যাংকে টাকা রেখে আর বীমা করে কি একই সুবিধা পাওয়া যায়। ব্যাংক এবং বীমা দুটি ভিন্ন আর্থিক চাহিদা পূরণ করে। ব্যাংক আপনাকে সঞ্চয় করতে সহায়তা করে। বীমা আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেমন- দুর্ঘটনায় বা মৃত্যুতে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে নির্ধারিত অঙ্কের আর্থিক সুরক্ষার পাশাপাশি সঞ্চয়ের সুবিধাও দেয়।
সঠিক পরিকল্পনা করুন: মনে রাখা জরুরি, বীমার মূল উদ্দেশ্য আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া। বীমা করার সময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক 'পলিসি' বেছে নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির পরামর্শ নিতে পারেন। কত টাকার বীমা করা প্রয়োজন তা নির্ভর করে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং যে যে কারণে আপনি আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান তার ওপর। আপনি হয়তো জটিল কোনো অসুস্থতার জন্য বা আপনার অবর্তমানে পরিবারের যাতে কোনো অসুবিধায় না পড়তে হয়, তার জন্য কিংবা অবসর জীবন যাতে নির্ভাবনায় কাটাতে পারেন, তার জন্য বীমা করতে চাচ্ছেন। ভবিষ্যতে ওই সময় আপনার কী পরিমাণ টাকার দরকার হতে পারে, তা চিন্তা করে বীমা করা উচিত। আর কত বছরের জন্য করা উচিত, তা নির্ভর করে যে সময়সীমার জন্য আপনি আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকতে চাচ্ছেন, তার ওপর।
বীমা দাবি: বীমা পলিসির মেয়াদ শেষে বা বীমা দাবির ক্ষেত্রে সব ডকুমেন্ট ঠিকমতো দিলে সময়মতো বীমার টাকা পাওয়া আপনার অধিকার। প্রতিটি কোম্পানির বীমা দাবি পরিশোধের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। মেয়াদকালে কোনো বীমা দাবি না করা হলে মেয়াদ শেষে পাওয়া যায় মেয়াদপূর্তির টাকা বা ম্যাচিউরিটি ভ্যালু। তবে মনে রাখা দরকার, বীমা দাবি বা মেয়াদপূর্তির টাকা সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার জন্য দরকার বীমা পলিসি ঠিকমতো পূর্ণ সময় ধরে চালানো।
পলিসির মেয়াদ ও প্রিমিয়াম: বিভিন্ন মেয়াদের বীমা পলিসি রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ মেয়াদের বীমা নেওয়া ভালো। কেননা, তাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বীমা সুরক্ষার আওতায় থাকা সম্ভব হয়। কম মেয়াদের বীমা করার পর আবার যদি বীমা করা হয়, সে ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের পরিমাণও বেড়ে যায়। বীমার সুবিধা ঠিকমতো পাওয়ার জন্য নিয়মিত প্রিমিয়াম দেওয়া খুব জরুরি। এখন প্রিমিয়াম দেওয়াও খুব সহজ। বুথে না গিয়ে ঘরে বসেই অনলাইনে বা মোবাইলে প্রিমিয়াম দিতে পারবেন। প্রিমিয়ামের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় পলিসির অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালু, মেয়াদ, গ্রাহকের বয়স এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে। নিয়মিত প্রিমিয়াম না দিলে পলিসি তামাদি হয়ে যায়। ফলে পলিসিটি আপনাকে প্রয়োজনে আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারবে না।
অসুস্থতা ও বীমা: কারও কারও ধারণা, মারা গেলেই বীমার টাকা পাওয়া যায়। এ ধারণা সঠিক নয়। বীমা পলিসি অনুযায়ী বেঁচে থাকা অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, অক্ষমতা বা চিকিৎসা খরচ এমনকি বীমার মেয়াদ শেষেও আপনি পেতে পারেন মেয়াদপূর্তির টাকা। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বা যেসব ঝুঁকি থেকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকতে চান, তার জন্য বীমা করা যায়। গুরুতর রোগের চিকিৎসা খরচ মেটানোর জন্য বীমা রয়েছে, যা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে মানসিকভাবে স্বস্তিতে রাখতে সাহায্য করবে।
কোথায় বীমা করবেন: দেশে অনেক জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে। কোথায় বীমা করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খোঁজ নিন, আপনি যে ধরনের বীমা করতে চাচ্ছেন, সেই ধরনের বীমা কোন কোম্পানি দিচ্ছে। সাধারণত কোম্পানির ওয়েবসাইটে তাদের বীমা পণ্য বা সেবার বর্ণনা দেওয়া থাকে। আপনি এ বিষয়ে কোম্পানির 'আর্থিক সহযোগী' কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তার পর খোঁজ নিন কোম্পানির সুনাম সম্পর্কে। বন্ধু বা সহকর্মীদের কাছে ওই কোম্পানি সম্পর্কে মতামত নিতে পারেন। কোম্পানিটি আগের বছরগুলোতে কী পরিমাণ বীমা দাবি পরিশোধ করেছে এবং কত সময়ের মধ্যে করেছে, সে ব্যাপারে খোঁজ নিন। এসব জেনে আপনি সিদ্ধান্ত নিন।
তথ্যসূত্র: 'হ্যালো বীমা' কমিকস
আমাদের ফ্রি Training গুলো দেখতে যুক্ত হতে পারেন YouTube Or Facebook এ YouTube: https://www.youtube.com/@InsuranceMan/videos Web/Blog Site Link : https://insuranceman01.blogspot.com/ Fb Page : https://www.facebook.com/profile.php?id=100086409855197

No comments